
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অফিসটিতে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির খসড়া পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্ধারিত টাকার বাইরে ‘চুক্তিভিত্তিক’ অর্থ ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না।
সরেজমিনে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ভূমি অফিসে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়েও সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, ভূমি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম অফিসে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও অনেককে দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়। “আজ না কাল” বলে সময়ক্ষেপণ করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দুর্নীতির একটি বিশেষ কৌশলও অনুসরণ করা হয়। কেউ ঘুষ না দিয়ে নিয়ম মেনে নামজারি বা খারিজের আবেদন করলে তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়া হয়। যেমন— জমির দাগ নম্বর ভুল উল্লেখ করা বা হোল্ডিং নম্বর না থাকার কথা বলা হয়। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে আবেদন বাতিল হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দালালের মাধ্যমে ‘স্যারকে খুশি’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয় এবং সেই অর্থের একটি অংশ উপজেলা ভূমি অফিসের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেওয়া হয় বলে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com