
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসিতে প্রভাব বিস্তার এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন তিনি।
বিএডিসির একাধিক সূত্র জানায়, বাইরে নিজেকে সাধারণ কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করলেও বীজ বিভাগের নানা অনিয়মের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন নুরুল ইসলাম। বিশেষ করে ‘ডাল ও তৈল বীজ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) থাকাকালে কেনাকাটা, বীজ সংগ্রহ ও বিতরণ এবং নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তারের প্রভাব ব্যবহার করে ঘুষের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিজের পদায়ন নিশ্চিত করেন নুরুল ইসলাম। এরপর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগেও কমিশন ও টেন্ডার বাণিজ্য চালিয়ে যান বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার দে’র সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রদীপ-নুরুল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই বিএডিসির বীজ বিভাগে বদলি, পোস্টিং, নিয়োগ ও টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব রাখার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরুল ইসলাম। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নিজস্ব বাড়ি, বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে প্রদীপ কুমার দে’র বিরুদ্ধেও রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবীতে একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট এবং ফেনীতে এগ্রো ফার্ম থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা এখনও তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
বিএডিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে অনিয়মের তথ্য প্রকাশের আশঙ্কা তৈরি হলে প্রভাবশালী মহল ব্যবহার করে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হতো। এমনকি ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজশাহীতে আলু বীজ সংগ্রহ নিয়ে অভিযোগ উঠলে দায় এড়াতে নিজেই তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন নুরুল ইসলাম।
বিএডিসির সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দেশের কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলাম ও প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল খায়ের মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com