
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিও ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
৬ মে রাত ১০টার পর ফেসবুকে অডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নজরে এলে জেলা পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, অডিওটি সামনে আসার পরপরই এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ মে গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যান থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েল। এসময় পিকআপের চালক নাছিম (২৩) এবং তার সহকারী মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়।
পরে এ ঘটনায় রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দাবি, জসিমই চোরাই পণ্যের মূলহোতা।
এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওগুলোতে এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রথম অডিওতে জসিম নামে একজনকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেবো। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।”
জবাবে অপর প্রান্তের ব্যক্তি, যাকে এসআই আবু হানিফা বলে দাবি করা হচ্ছে, বলেন, “না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন।”
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, “ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।”
দ্বিতীয় অডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনি যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি... আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।”
এর জবাবে জসিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, “আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে দুই লাখ টাকা দিচ্ছি। আমাকে একটু সময় দেন।”
অডিওর এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “বিষয়টি পুলিশ সুপার দেখছেন। এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে।”
নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com