
কেরানীগঞ্জের আটিবাজার পুলিশ ক্যাম্পকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই ক্যাম্পটি এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, আটক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জহিরুল ইসলাম তার কর্মজীবনে একাধিকবার বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, অন্তত পাঁচবার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাকে বান্দরবানের থানচি-লামা এলাকায় শাস্তিমূলক দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। এছাড়া ২০১৪ সালে বিভাগীয় পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে এবং ২০১৩ সালে এক নারী বাদীকে মারধরের ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এমন পটভূমির একজন কর্মকর্তা কীভাবে ঢাকার কেরানীগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পেলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আটিবাজার পুলিশ ক্যাম্পে সেবা পেতে হলে দালাল বা অর্থ লেনদেনের পথেই যেতে হয়। গত ডিসেম্বর মাসে ছিনতাই হওয়া একটি ট্রাক উদ্ধার করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি আবার ছিনতাই হওয়ার ঘটনায় জহিরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এটি গাফিলতি নাকি পরিকল্পিত—তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মধ্যেরচর এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের সহায়তায় আটক এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার দাবি, প্রায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
আরেক ঘটনায় প্রবাসী রবিনকে তার বাসা থেকে তুলে এনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো মামলা ছাড়াই তাকে ও তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ নেওয়া হয়।
এছাড়া ব্যবসায়ী আনোয়ারকে ধরতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নারী সদস্যকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে ধরতে গেলে কাগজ লাগে না—এমন বক্তব্যও দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাপ্তাহিক মেলা থেকে উৎকোচ নেওয়া হয়। এমনকি জুয়া ও মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা আছে এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—এত অভিযোগের পরও কি নীরব থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নাকি কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com