
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওবায়দুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৪ মে) দুপুরে একদল শিক্ষার্থী তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তিনি মুক্ত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওবায়দুল ইসলাম তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ৫০–৬০ জন শিক্ষার্থী তার কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে তিনি কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না এবং প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল বলেন, “তিনি মাসে এক-দুবার এসে কাজ দেখেন, বাকি সময় দেশের বাইরে থাকেন। প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, অনেক কাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম। তিনি পাল্টা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা তার কাছে প্রকল্পের বিল থেকে ১ শতাংশ চাঁদা দাবি করেছিলেন। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি বলেন, “এর আগেও একই দাবি করা হয়েছিল। আমি রাজি না হওয়ায় আজ আমাকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।”
অন্যদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগ নাকচ করেছেন ছাত্রদলের নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “প্রকল্প পরিচালক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ দিচ্ছেন। আমরা শুধু কাজের মান ঠিক রাখার দাবি জানিয়েছি। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানার পর প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপাচার্য আরও জানান, ২০১৭ সালে প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়, যার বেশিরভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com