ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবল স্বামী নূর উদ্দিন তার স্ত্রী মনি আক্তারকে (২৫) হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার বাঘড়ি বাজারের ওয়ালটন প্লাজা সংলগ্ন মসজিদ গলি এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধার হওয়া মণি আক্তার উপজেলার বামনকাঠি এলাকার খলিলুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী নূর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল। তবে গত ৫-৬ মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে রাজাপুর থানায় আত্মহত্যা খবর আসে, খবর পেয়ে রাজাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনি আক্তারকে ঘরের ভেতরে মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। নিহত মনি আক্তারের স্বামী নূর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত এবং পুলিশ লাইন্স থেকে রাজাপুর সার্কেল অফিসে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি গত কয়েক মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগেই থাকত। বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য মনি আক্তারকে মারধর করতেন নূর উদ্দিন। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে এবং মনি আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও জানা গেছে।
নিহতের পিতা খলিলুর রহমান জানান, রাতে নূর উদ্দিন তাকে ফোন করে বলেন, “আপনার মেয়ে আর নেই, দ্রুত বাসায় আসেন।” পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেয়ের বাসায় গিয়ে দরজার হ্যাজবল লাগানো থাকলেও তালা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে ঢুকে মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি ৯৯৯-এ জানায়।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী নুর উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মনি আক্তারের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন এবং টাকার জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। নিহতের ভাই ওমর ফারুক জানান, মনি আক্তারের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে হত্যা করে তার স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী নূর উদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মনি আক্তারকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে। অভিযুক্ত নুর উদ্দিন দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। পরে ভয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে চলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের সময় নিহতের শরীরের দুই পাশের বগল থেকে কোমর পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
@durnitirdiary
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com