
রাজশাহীভিত্তিক নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমানকে ঘিরে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও গ্রাহকসেবায় নেতিবাচক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পরও তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি মাত্র কয়েকদিন নামমাত্র রাজশাহী কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বিজয়নগরে অবস্থিত লিয়াজোঁ অফিস থেকেই অধিকাংশ দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে রাজশাহীভিত্তিক প্রধান কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেসকোর এক কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে ধীরগতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান না হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না।
এদিকে ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিস পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অফিস ভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা ছাড়াও কর্মচারীদের বেতন, ড্রাইভারসহ অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে মাসিক খরচ প্রায় ১২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি জাতীয় প্রেস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট রেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।
দাপ্তরিক সভা আয়োজনের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিটি সভায় অংশগ্রহণকারীদের ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয় এবং মাসে একাধিক সভার কারণে এ খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেও প্রতিটি সভায় সম্মানী গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেসকোর কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির অভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়, যা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, দাপ্তরিক প্রয়োজনেই তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি কোনো অনিয়ম করেননি বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com