
চট্টগ্রাম নগরীর বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহ। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার ও তার পরিবারের নামে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস বা রুট পারমিট—প্রায় সব ধরনের সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কাজ না করে দালালদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, ঘুষ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় বা পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়।
এক পরিবহন শ্রমিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এই অফিসে সক্রিয় রয়েছে, যার কারণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়টিতে অভিযান চালায়। অভিযানে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মো. সলিম উল্যাহ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সলিম উল্যাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের দাবি, কেবল অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে দুর্নীতি দমন ও দালালচক্র নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com