
যশোরের বেনাপোল পৌরসভার সাবেক সচিব রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরিকালে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
দুদক সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম ‘রাইসা বিল্ডার্স’ নামে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, যার মালিক তার স্ত্রী ইসরাত জাহান। পৌর সচিব থাকাকালেই এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও একটি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, চাকরিকালে ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় একটি জুতার কারখানা স্থাপন করেন রফিকুল, যেখানে বর্তমানে প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
এছাড়া অন্য ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
রফিকুল ইসলামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। তিনি ১৯৯৮ সালে পৌর সচিব হিসেবে চাকরি শুরু করেন এবং ২০২১ সালের আগস্টে পদত্যাগ করেন। বেনাপোল পৌরসভা ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর তার প্রভাব আরও বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, তৎকালীন মেয়র আশরাফুল আলমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথাও শোনা গেলেও সাবেক মেয়র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রফিকুল কোনো অবৈধ সুবিধা পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তার সকল সম্পদ আয়কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন জানিয়েছেন, অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রফিকুল-ইসরাত দম্পতির নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে এবং একাধিক গাড়ির মালিকানাও তাদের রয়েছে।
এদিকে, মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় নির্মিত ‘রাইসা অ্যান্ড শিকদার টাওয়ার’ নিয়ে জমির মালিকদের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগও উঠেছে। জমির মালিকদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের অংশের কাজ শেষ করতে অনেককেই নিজ খরচে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে এক জমির মালিক রেহেনা রউফ বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ভবনের অর্ধেক অংশ তাদের পাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো হয়রানিমূলক মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com