
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) আইসিইউ কমপ্লেক্সে পাঁচতলা ভবনে মুমূর্ষু রোগীদের ওঠানো-নামানোর জন্য বেড-কাম প্যাসেঞ্জারস লিফট না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। লিফট সরবরাহে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে স্থাপন প্রক্রিয়া থমকে থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন আইসিইউ ইউনিট নির্মাণের অংশ হিসেবে ভবনটিতে একটি ফায়ার প্রটেক্টেড বেড-কাম প্যাসেঞ্জারস লিফট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। প্রায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার প্রকল্পের মধ্যে লিফটের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি। কাজটি পায় ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে ২০২৪ সালে সেখানে সাধারণ প্যাসেঞ্জারস লিফট স্থাপন করা হয়, যা দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ছিল না। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গণপূর্ত অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ওই বছরের জুনে লিফটটি অপসারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন একটি লিফট সরবরাহ করলেও সেটি এখনো স্থাপন করা হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত আইসিইউ কমপ্লেক্সে রোগীদের স্ট্রেচারসহ ওঠানামার জন্য কোনো উপযুক্ত লিফট নেই। বাধ্য হয়ে স্বজনদের সিঁড়ি বা বিকল্প লিফট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা গুরুতর রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জাকির হোসেন সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি দিয়ে ‘ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে’ বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, লিফট সরবরাহের ক্ষেত্রে তারা জাপানের ফুজিটেক কোম্পানির অনুমোদিত স্থানীয় এজেন্ট শেল করপোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ নেন। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান নথিপত্র সরবরাহে প্রতারণা করেছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে লিফট সংক্রান্ত ই-মেইল ও ডকুমেন্ট ভুয়া এবং লিফটটি জাপান থেকে আমদানি করা হয়নি। তার দাবি, বিষয়টি উচ্চ প্রযুক্তিগত হওয়ায় শুরুতে তিনি তা বুঝতে পারেননি এবং তার প্রতিষ্ঠান প্রতারণার শিকার হয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ করা লিফটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যেমন ট্র্যাকশন মোটর ও কন্ট্রোল বক্স মূল তালিকায় পাওয়া যায়নি। এছাড়া ই-মেইল আইডি যাচাই করে ভুয়া পাওয়া গেছে এবং বারকোড স্ক্যানেও ফুজিটেকের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তদন্ত কমিটি মনে করছে, এই লিফট স্থাপন করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এটি ব্যবহার অনুপযুক্ত বলে মত দিয়েছে কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দীর্ঘদিনেও লিফট স্থাপন না হওয়ায় আইসিইউ ভবনে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com