
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন পরিচ্ছন্নতা শাখার স্থায়ী কর্মচারী ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক ফারুক আহমদ, যার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে অস্থায়ীভাবে সিসিকে যোগ দেওয়া ফারুক ২০১৩ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে স্থায়ী চাকরি পান। এরপর থেকেই তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়দের দাবি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফারুক আহমদ নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভাই, ভাগ্নে, শ্যালকসহ অন্তত ১৫০ জন আত্মীয়-স্বজনকে সিসিকে চাকরি দিয়েছেন। এসব নিয়োগের বিপরীতে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে তার বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বটেশ্বর চুয়াবহর এলাকায় নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবন, আলমপুর আবাসিক এলাকায় দামী প্লট, পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে আরেকটি জমি এবং গোয়াইনঘাট বাইপাস এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৮ বিঘা জমি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন আয়কর ফাঁকি দিতে তিনি টিআইএন গ্রহণ করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে তড়িঘড়ি করে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাজিরা নিয়েও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, কর্মীরা মাসে গড়ে ৪-৮ দিন অনুপস্থিত থাকলেও খাতায় পূর্ণ উপস্থিতি দেখানো হয়। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই সিন্ডিকেটে চালক পিচ্চি বাবুল, সাদিক, ইকবাল, মামুন, শাহ আলম ও নাঈমসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসা ও তেল চুরির অভিযোগও রয়েছে।
ফারুকের শ্যালক সাদিকের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, বিদেশে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে তাকে নিয়মিত বিদেশ সফরে পাঠানো হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক আহমদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির তথ্য তার জানা নেই।
একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মচারীর বিপুল সম্পদ ও সিন্ডিকেট নিয়ে সিসিকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com