
বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ (ফ্রিজ) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অধীনে রয়েছে।
দুদকের নেতৃত্বে গঠিত একটি জাতীয় টাস্কফোর্স এই বিষয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুদক করেছে ১১টি এবং সিআইডি করেছে ১৭টি। এসব মামলার ভিত্তিতে আদালত সম্পদগুলো ফ্রিজ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আরও কয়েকটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৭.৫৫ বিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এছাড়া ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার, প্রায় ১৯৭০ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা ১২৮ কোটি টাকার বেশি।
দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের দায়িত্ব হলো এসব সম্পদ যাতে কোনোভাবে হস্তান্তর বা বিক্রি না হয় তা নিশ্চিত করা। ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের সহায়তা করাই তাদের প্রধান কাজ।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগগুলোর মধ্যে বড় একটি হলো প্রায় ১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর এই অভিযোগে পাঁচটি মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, রপ্তানির নামে জালিয়াতি করে এলসির বিপরীতে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব মামলায় সালমান এফ রহমান, তার পরিবারের সদস্য এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর বাইরে ২০২৫ সালের ৩ জুন করা দুটি মামলায় প্রায় ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখানো, জাল সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব মামলায় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ১৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়। একইভাবে ১৬ এপ্রিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সালমান এফ রহমানের ছেলের নামে লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়ার পর সেগুলো উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
এই পুরো ঘটনায় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয় সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন, এবং আদালতের নির্দেশে জব্দ করা সম্পদগুলো আপাতত ফ্রিজ অবস্থায় রাখা হয়েছে যাতে এগুলো বিক্রি বা স্থানান্তর করা না যায়।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com