
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এ বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল জারি করা এক অফিস আদেশে (স্মারক নং- ৭৫.০৩.০০০০.০০০.০১.১৯.০১০৮.২৫-৭৭৭) কয়েকজন সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শককে দেশের বিভিন্ন সার্কেলে বদলি করা হয়। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনিক অঙ্গনে এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিআরটিএ-র অভ্যন্তরেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংস্থার ভেতরে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী আর্থিক লেনদেন ও তদবিরের মাধ্যমে এই বদলি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। এর ফলে বিতর্কিত কর্মকর্তারা আবারও তাদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বহাল থাকতে পেরেছেন বলে দাবি উঠেছে।
১২ এপ্রিলের আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই পরদিন, ১৩ এপ্রিল, উপপরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত নতুন এক আদেশে (স্মারক নং- ৩৫.০৩.০০০০.০০০.০১.১৯.০১০৮.২৫-৭৯৮) আগের বদলি নির্দেশ সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরানোর উদ্দেশ্যেই প্রথম আদেশটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বদলির তালিকায় থাকা কর্মকর্তারা প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই বদলি বাতিল করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. রিয়াজুল ইসলামকে ঝালকাঠি এবং জিয়াউর রহমানকে বগুড়ায় বদলি করা হয়। পাশাপাশি ফরিদপুর থেকে পলাশ খীসা এবং বগুড়া থেকে মোহাম্মদ হারুন উর রশিদকে ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মোটরযান পরিদর্শক লাভলু সিকদারকে ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশে উল্লেখ ছিল, ১৯ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২০ এপ্রিল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে ১৩ এপ্রিলই এই পুরো প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়।
বিআরটিএ-র কর্মকর্তাদের একটি অংশ যেকোনো মূল্যে ঢাকা মেট্রো সার্কেলে অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, লাইসেন্স ও ফিটনেস সংক্রান্ত সেবা ঘিরে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকায় এই সার্কেলগুলোকে বেশি লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলকে সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আয়সম্ভাবনাময় ইউনিট হিসেবে ধরা হয়। ফলে এখান থেকে কর্মকর্তাদের সরানো হলেও দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন একই স্থানে অবস্থান করে কিছু কর্মকর্তা প্রভাব বিস্তার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই ঘটনার পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন থাকতে পারে। দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এতে বিআরটিএ-র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে উপপরিচালক (প্রশাসন) তানভীর সিদ্দিকী এবং পরিচালক (প্রশাসন) নাজনীন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিআরটিএ-র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে। অন্যথায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com