
গাজীপুরের শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে বরমী অভিমুখে নবনির্মিত ১২০ মিটার আরসিসি সড়কে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কে এত দ্রুত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় স্থানীয়রা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যায়। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাটল ঢাকতে সংশ্লিষ্ট অংশে নীল রঙ করার চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর পৌরসভা চৌরাস্তা থেকে বরমী অভিমুখে ১২০ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিয়ান এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি চালু হওয়ার পর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সম্প্রতি ঢালাই কাজ শেষ হলেও এর মধ্যেই ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে ঠিকাদারকে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাদেক মিয়া বলেন, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং তদারকির অভাবের কারণে এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তার মতে, এভাবে নির্মিত সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং দ্রুতই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
আরেক ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, সড়কটি এখনো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এর আগেই ফাটল দেখা যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
শ্রীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম জানান, বর্ষা মৌসুমে এ সড়কের অংশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ ছিল। নতুন করে ঢালাই হওয়ায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক ভারী যানবাহন চলাচল করে। চালু হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবিষ্যতে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিয়ান এন্টারপ্রাইজের মালিক এমদাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, তিনি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে তার কোনো অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা নেই। তার দাবি, গত কয়েকদিনের তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সড়কের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আকতার বলেন, তাপমাত্রার প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এবং এটিকে বড় ধরনের ফাটল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি জানান, পানি ব্যবহার করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে পুনরায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com