জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ও লে. কর্ণেল (চাকুরিচ্যুত) মো. আফজাল নাছেরকে ফের ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুপুরে আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মিরপুর থানায় দায়ের করা দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কফিল উদ্দিন আরও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আফজাল নাছেরের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি রিমান্ড এর পক্ষে শুনানি করেন।
গত শুক্রবার এই মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতসন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার।
গত ২৯ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে মিরপুর থানার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ৩০ মার্চ তাঁকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্য পল্টন থানায় দায়ের করা মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে ৫ এপ্রিল তিন দিন, ৮ এপ্রিল আরও তিন দিন, ১২ এপ্রিল দুদিন এবং ১৪ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এই নিয়ে সাত দফা রিমান্ডে নেওয়া হল আফজাল নাছেরকে।
নতুন করে রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন এর আগে আদালতের আদেশে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও তা আংশিক ও অসম্পূর্ণ। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তথ্য দিচ্ছেন, যার ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পুনরায় রিমান্ড প্রয়োজন।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার মূল রহস্য এখনো পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা, নেপথ্যের নির্দেশদাতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে আফজাল নাছেরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। একই সঙ্গে হত্যার সময় কার কী ভূমিকা ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে কারা সরাসরি জড়িত, এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতেও আসামিকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com