সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে আঙুল উঠেছে খোদ সাব-রেজিস্ট্রার (এসআর) জাকির হোসেন এবং অফিসের পিয়ন আপেলের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পিয়ন আপেল নিবন্ধন পরিদর্শক জেনারেলের (আইজিআর) ব্যক্তিগত গাড়িচালকের আপন ছোট ভাই। আইজিআর কার্যালয়ের দোহাই দিয়ে এই চক্রটি সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
ক্ষমতার দাপটে ধরাছোঁয়ার বাইরে আপেল
অফিসের একজন সাধারণ পিয়ন হয়েও আপেলের দাপটে তটস্থ থাকেন খোদ কর্মকর্তারাও। অভিযোগ রয়েছে, নিবন্ধন পরিদর্শক জেনারেলের (আইজিআর) ড্রাইভারের ভাই হওয়ার সুবাদে তিনি এক বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীদের দাবি, পিয়ন আপেলকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘কমিশন’ না দিলে কোনো ফাইল সাব-রেজিস্ট্রারের টেবিলে পৌঁছায় না। পর্দার আড়ালে থেকে তিনি অফিসের যাবতীয় অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পিয়ন আপেলের মাধ্যমে ঘুষের অংক নির্ধারণ করেন। জমি ভেজালের অজুহাত দিয়ে বা কাগজপত্রে সামান্য ভুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। টাকা দিলে মুহূর্তেই ‘অবৈধ’ ফাইল বৈধ হয়ে যায়, আর টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় সেবাগ্রহীতাদের।
দুর্নীতির প্রধান খাতসমূহ:
অতিরিক্ত ফিস আদায়: সরকার নির্ধারিত ফি-র বাইরেও দলিল প্রতি ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ।
দলিল জালিয়াতি: মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত ও জাল দলিল নিবন্ধনের সুযোগ করে দেওয়া।
সিরিয়াল বাণিজ্য: পিয়ন আপেলকে টাকা না দিলে সিরিয়াল ভেঙে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারের একজন স্থায়ী বাসিন্দা বলেন, “আমি আমার পৈতৃক জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে দেখি পদে পদে টাকা। পিয়ন আপেল সরাসরি বলে দিয়েছেন, উপর মহলের নির্দেশ আছে, নির্দিষ্ট অংকের টাকা ছাড়া ফাইল ছাড় হবে না। আমরা সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে, আইজিআর-এর ড্রাইভারের পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখানো পিয়ন আপেলও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলছেন না।
সাভারের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নিবন্ধন পরিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ‘ঘুষের সিন্ডিকেট’ ভাঙা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com