১৬ বছর রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকায় ৭ বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর চেষ্টার মামলায় তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুই জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস দেওয়া হয়েছে দুইজনকে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এই রায় দেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া ও খন্দকার ওমর ফারুক। ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন মো. রমজান ও সাদ্দাম। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
যাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরো এক বছর করে কারা ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
ট্রাইবুনাল রায় আরো বলেছেন, জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় পূর্বক টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ ভিকটিমের পরিবারকে দিতে হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এই টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। তাদের সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দাম পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
ট্রাইবুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের এক শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
তদন্তকালে জানা যায়, অভিযুক্তরা শিশুটিকে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য তার অঙ্গহানি করে।
তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন৷ এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন৷
এ মামলায় ২০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com