সোনালী ব্যাংক কুড়িগ্রাম সদর প্রিন্সিপাল শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (ম্যানেজার) মোঃ শরীফ হাসান ২০২৩ সাল থেকে নিজ এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন একই এলাকায় কর্মরত থাকার সুযোগে তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ম্যানেজার ব্যাংকের গ্রাহকদের নানা ভাবে হয়রানি, আত্মীয়-স্বজনদের স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ প্রদান এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। তার বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ডের ফলে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া এলাকার তালপাড়া গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া কৃষি ঋণের এক জামিনদার শিক্ষিকাকেও নানা উপায়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে এবং তার প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কুড়িগ্রাম সদর প্রিন্সিপাল শাখায় বদলি করলেও তিনি সেখানে গিয়েও একই ধরনের অনিয়ম অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করা হয়।
এলাকাবাসীর পক্ষে জনৈক মোঃ জাকির হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর গতকাল সোমবার ৬/৪/২০২৬ইং তারিখ অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
একই এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী আরজু আক্তার ইনকিলাবকে জানান, মোঃ শরীফ হাসান তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭ শতাংশ জমি দলিল করে দেন। দলিল করার ১ দিন পর জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তাকে সরেজমিনে জমি বুঝিয়ে দেয় নি। তিনি অভিযোগ জানিয়ে আরো বলেন,দূর্নীতিবাজ শরীফ হাসান ওল্টো তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করছেন। এ ছাড়াও অপর এক ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, শরীফ হাসানের পিতা বেলাল হোসেন এলাকায় ডাকাতি করতো। সোনালী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে তিনি রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,শরীফ হাসানের মতো একজন অসুস্থ ও মানসিক বিকারগস্ত লোক এখন পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের মতো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছে তা বোধগম্য নয়। ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) শরীফ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত (ওএসডি) করা হয়েছে এবং তাকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কুড়িগ্রামের করপোরেট অফিসের ডিজিএম শাখায় বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগোর সত্যতা জানতে শরীফ হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে প্রতিবেদকের সাথে উল্টো পাল্টা কথা বলেন।
@dailyinqilab
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com