প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৮, ২০২৬, ৪:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছয় মামলার সুপারিশ
কোভিড মহামারির সময়ে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালের সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সেবা ক্রয়–সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের সম্পৃক্ততা ধরা পড়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ পাওয়ায় বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ মাথায় নিয়ে সেই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ যখন পদত্যাগ করেন। এরপর করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
জানা গেছে, অভিযোগগুলো অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হবে।
দুদকের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় মাস্ক, গ্লাভস, হাসপাতালের বেড, থার্মোমিটার, মোবাইল অ্যাপ, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন এবং জনসচেতনতামূলক টিভিসি ক্রয়ের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্যাকেজ জিডি-০১-এর আওতায় কেএন-৯৫ মাস্ক, এন-৯৫ মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১২০বি/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, প্যাকেজ জিডি-১৩-এর আওতায় ফাইভ ও থ্রি ফাংশন ইলেকট্রিক হাসপাতাল বেড ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
জিডি-০৮-এর আওতায় হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার ও কেএন-৯৫ মাস্কসহ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-০৫-এ করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য কেএন-৯৫ মাস্ক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে দুদক।
তদন্তে আরও জানা যায়, অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে ই-মিউজিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হোসনী ইয়ামিনের মাধ্যমে প্যাকেজ এসডি-০২-এর আওতায় সচেতনতা, শিক্ষা, ঝুঁকি যোগাযোগ ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধবিষয়ক টিভিসি ক্লিপ ক্রয়ে অনিয়ম করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টিভিসি প্রচার না করেই ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া প্যাকেজ এসডি-০১-এর আওতায় ‘করোনা বিডি’ মোবাইল অ্যাপ ও ‘ন্যাশনাল করোনা কেয়ার সিস্টেম’ কেন্দ্রীয় ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ খাতে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদক বলছে, পৃথক ছয়টি অভিযোগে অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সেগুলো কমিশনে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদনের পর অভিযুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হবে।
সুপারিশ করা মামলার অভিযুক্তরা হলেন– সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মলেক, কোভিড-১৯ আরপিপি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ডা. ইকবাল কবীর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. তাহমিনা জোহরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. মো. শরিফুল হাসান, সাবেক ডিপিএম (সমন্বয়) ডা. মো. আনোয়ার সাদাত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মেডিকেল অফিসার (প্ল্যানিং) ডা. অনির্বাণ সরকার, জাদিদ অটোমোবাইলসের মালিক কাজী শামীমুজ্জামান, ই-মিউজিকের মালিক মো. হোসনী ইয়ামিন, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের মালিক রইসুল কবির, মেসার্স ইনসা ট্রেড করপোরেশনের মালিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সিম করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার মো. মোস্তফা মনোয়ার এবং এসআরএস ডিজাইনের মালিক মো. সাইফুর রহমান।
@jagonews24
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com
© Copyright 2025 - acmbangladesh.com