গুলশানে ফ্ল্যাট গ্রহণে দুর্নীতির মামলা:
টিউলিপ সিদ্দিককে আদালতে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ পেছালো
এসিএম নিউজ, ঢাকা
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুইজনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ পেছানো হয়েছে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আগামী ৮ এপ্রিল নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
এ মামলার অপর আসামি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
আজ এই মামলায় তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা সংক্রান্ত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দাখিল করার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কিন্ত বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) এ গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঈদের ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ের এই গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় আদালত আগামী ৮ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে আদালত কে জানায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ২৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে টিউলিপ সহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে দুদকের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেন আদালত।
অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনও টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২-এর ফ্ল্যাট দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন।
চলতি বছরের জুলাই মাসে মামলা তদন্তে আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। উক্ত স্থগিতাদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত স্থগিত রয়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
উল্লেখ্য মা ও ভাই বোনদের তিনটি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় ইতিমধ্যে টিউলিপ সিদ্দিককে প্রতি মামলায় দুই করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার অন্য একটি বিশেষ জজ আদালত।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com