এসিএম নিউজ, ঢাকা
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মহিউদ্দিন মহারাজ, তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং তাঁদের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করে।
দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন ও মো. মনিরুল ইসলাম তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা করেন। জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর-২ আসনের এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, মার্কেট, দোকান রয়েছে, যার মূল্য ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার ৪২৫ টাকা। ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও দুটি বিলাসবহুল গাড়িসহ তাঁর অস্থাবর সম্পদ ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৩ টাকা। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁর পারিবারিক ব্যয় ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪২ টাকা। এই সময়ে তাঁর মোট উপার্জন ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য উপার্জিত আয় পায় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা। দুদক মহারাজের কোনো দায়-দেনা না পাওয়ায় মোট অবৈধভাবে সম্পদের অর্জন পায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার।
একই ভাবে মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের জমি, ফ্ল্যাট, দোকানসহ স্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকার। অস্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ টাকার। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কর পরিশোধ ও পারিবারিক ব্যয় দেখিয়েছেন ৫১ লাখ ১ হাজার ৬৮৪ টাকা। কিন্তু তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর অবৈধ উপার্জনের পরিমাণ ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৬ টাকা।
অনুসন্ধানে মহারাজ দম্পতির ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির মোট আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৬৭৬ টাকা। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর লেখাপড়ার ব্যয় ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর মোট অর্জন ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৬ টাকা। অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। সে ক্ষেত্রে তাঁর অবৈধ অর্জন ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা।
মামলার এজাহারে দুদক বলেছে, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তাঁর নিজের কোনো আয়ের উৎস নেই। ওই টাকা তাঁর বাবা মহারাজ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জন করে ছেলের আয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ওই অবৈধ অর্থ ইফতির দখলে থাকায় তাঁকেও তাঁর বাবার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পিরোজপুর এলজিইডি থেকে টেন্ডারের নামে কোনো কাজ না করে বিভিন্ন সময়ে ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় মহারাজের বিরুদ্ধে দুদক এর আগে আটটি দুর্নীতির মামলা করেছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com