এসিএম নিউজ ডেস্ক
এবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার পর আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সেই আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে ধাওয়া দিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিকালে তাকে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যতন টাইব্যুনাল নং-১ এ সোপার্দ করা হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলম নিজ এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ তাকে ধরতে গেলে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হিরো আলম। পরে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় এক মামলায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকালে ট্রাইবুনালে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি করেন। ওই দিন আদালতের বিচারক বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত শেষে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ:
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলম বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে এক মৌলভী ডেকে কবুল পরিয়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত বছরের ১৮ এপ্রিল বগুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলমসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে মারধর করেন। এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে ওই নারীকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নারীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ১৫ লাখ টাকা:
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার ধর্ষণ ছাড়াও সিনেমা তৈরীর কথা বলে হিরো আলম ১৫ লাখ টাকা নেন ওই নারীর কাছ থেকে। ধার হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে আর ফেরত দেননি ওই টাকা। মামলার অভিযোগপত্রেও টাকা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কে এই হিরো আলম?
তিনি কখনো আশরাফুল আলম সাঈদ, কখনো আশরাফুল হোসেন আলম। কখনো হিরো আলম। তবে তিনি হিরো আলম নামে অধিক পরিচিত।
ইতিমধ্যে তিনি একজন বাংলাদেশী সঙ্গীত ভিডিও মডেল, অভিনেতা, গায়ক, রাজনীতিবিদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তি। তিনি একজন স্বাধীন শিল্পী হিসাবে সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলিতে ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। তিনি তার বেসুর গলায় গাওয়া গানের জন্য সর্বাধিক আলোচিত, সমালোচিত। এই কারণে তিনি বিভিন্ন ইন্টারনেট মিমের উপাদানেও পরিণত হয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী হয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সংসদ উপনির্বাচনেরও প্রার্থী হন।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করলে বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে হিরো আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুটো আসনেরই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। উপনির্বাচনে তিনি উভয় আসনে পরাজিত হলেও বগুড়া-৪ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে তার ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৮৩৪। একই বছরের ১৭ জুলাই তিনি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। তবে ভোট চলাকালীন পুলিশের সামনে থেকেই আওয়ামী লীগের কর্মীদের মারধরের শিকার হওয়ার পাশাপাশি ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তার ওপর হামলার ঘটনায় জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারও তার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোকপাত করেন। ১৭ জুলাই ২০২৩ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ও মারধরের ঘটনা সামনে রেখে ফলাফল প্রত্যাখান করে ইসিতে পুনঃনির্বাচনের দাবী জানান হিরো আলম।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com