এসিএম নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা ও রূপালী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।
গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–২–এ একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ মামলাটি করেন।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১–এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মাহফুজুর রহমান ২০০২–০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৪–২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও সম্মানী, গৃহভাড়া, লভ্যাংশ, ঋণ, গাড়ি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে তিনি মোট ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তবে আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ব্যবসা ও মৎস্য খাতের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয়ের পক্ষে অনুসন্ধানকালে গ্রহণযোগ্য কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে দুদক জানিয়েছে।
এছাড়া ২০১১–১২ থেকে ২০১৬–১৭ করবর্ষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার দাবি করা হলেও এর বৈধ উৎস বা সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা, যার ফলে তাঁর সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৭ টাকা। অন্যদিকে অনুসন্ধানে তাঁর নামে ২ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকা। ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com