
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে চারটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার পরিচালিত এসব অভিযানে খাদ্য, পানি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও রেলওয়ে খাতে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এসব এনফোর্সমেন্ট পরিচালনার কথা আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন।
এর মধ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে টিসিবি এবং ওএমএসের চাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ভুক্তভোগী ডিলারদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার নম্বর-১৫ পুনর্বাসন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন বাঁধ প্রকল্পের এস্টিমেট, মেজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল অব এন্ট্রি ও কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়।
বাঁধ নির্মাণকাজের গুণগত মান ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলী টিমের মাধ্যমে সরেজমিন পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। এ সময় নির্মাণাধীন বাঁধের বিভিন্ন অংশের পরিমাপ নেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দুদকের বাগেরহাট জেলা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ তালাবদ্ধ, নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় কম নার্স দায়িত্বে ছিলেন এবং বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না।
এ ছাড়া টিকিট কাউন্টারে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়া, একাধিক যন্ত্রপাতি অকেজো থাকা এবং রোগীদের খাবার নির্ধারিত মেনুর তুলনায় কম সরবরাহের বিষয়টি অভিযানকালে লক্ষ করা যায়।
অন্যদিকে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে অসাধু যোগসাজশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দুদকের কক্সবাজারের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিতি, দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত দালালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
দুদক সূত্রটি জানিয়েছে, অভিযানগুলোতে সংগৃহীত তথ্য, নথিপত্র ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে দুদকের সংশ্লিষ্ট টিমগুলো কমিশন বরাবর পৃথকভাবে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
@ajker patrika
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com