সম্পদ ও আয় নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী তানিয়া আক্তারের (৪৬) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরে কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
শাহাদাত হোসেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের আগে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর একান্ত সহকারী সচিব (এপিএস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সনের একান্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এই শাহাদাত।
কার পল্লবী এলাকার উত্তর সেনপাড়া মহল্লার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে তিনি আয়কর দেওয়া শুরু করেন। ওই সময় থেকে তিনি ঢাকার উপকর কমিশনার কর সার্কেল-২৫৬, কর অঞ্চল ১২-তে আয়কর প্রদান করতেন। তার দাখিলকৃত এসব বিবরণী দেখে সন্দেহ হওয়ায় ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার আয় ও সম্পদের নথিপত্র চাওয়া হয়। তিনি ২৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের ফরিদপুর কার্যালয়ে এসব কাগজপত্র জমা দেন। পরে সেখান থেকে দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর ঢাকায়ও তাকে আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ১৭ এপ্রিল তিনি তা জমা দেন।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদক থেকে আবারও সংশোধিত সম্পদ দায় ও সম্পদের নথিপত্র চাওয়া হয়। এরপর তিনি নথিপত্র জমা দেন।
এ মামলার বাদী মোস্তাফিজ বলেন, তানিয়ার দাখিলকৃত সম্পদ দায় ও আয় বিবরণীতে আমরা দেখেছি, তিনি হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৬ টাকার ঋণ দেখিয়েছেন। তবে বাস্তবে খুঁজে তার হদিস আমরা পাইনি। অর্থাৎ তিনি ভুয়া ঋণ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি সম্পদ বিবরণীতে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাস্তবের থেকে ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৮০ টাকা কম দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন।
তিনি বলেন, এছাড়াও নিজের নামে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৪ টাকার সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি এই সম্পদের পরিমাণ গোপন করেছেন। এসব সম্পদ তিনি ২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে অর্জন করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, এ মামলাটি আমাদের কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিউল্লাহ নথিভুক্ত করেছেন। তানিয়ার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগুলোর ভিত্তিতে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬ (২) এবং ২৭(১) এই দুইটি ধারায় মামলাটি হয়েছে।
তিনি বলেন, এ মামলার কাগজপত্র বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
@dhakapost
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com