এসিএম নিউজ, ঢাকা
বাসায় গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে ৫ দিন, তাঁর স্ত্রী বীথিকে ৭ দিন এবং তাদের বাসার অন্য গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকে ৬ দিন ও রুপালী খাতুনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৪ জনকে ৭ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বিমানের এমডিসহ ৪ জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপ পক্ষে একজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
বাদী পক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত আইনজীবীসহ শতাধিক আইনজীবী রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য জানান।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করতেন। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি আসামিরা কোথায় রেখেছেন, সে সম্পর্কে জানেন। ভুক্তভোগীর শরীরের ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীকে অন্যভাবেও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এটাও আসামিরা জানেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ মামলার ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের নাম–ঠিকানা সংগ্রহ ও খুন্তি উদ্ধারের লক্ষ্যে আটক আসামিদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামালায় সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুর দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুনে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মোহনাকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর তাকে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ, তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিমানের এমডি র স্ত্রী বীথি এর সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মোহনা তাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি মোহনাকে হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে নির্যাতিত ওই শিশু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।
উল্লেখ্য, বিমানের এমডিকে মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে পথ থেকে অপসারণ করে সরকার।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com