প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৮:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারি কাঠ পাচার: বন কর্মকর্তা দেলোয়ার ও আবিরের বিরুদ্ধে মাসে অর্ধ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবৈধ কাঠ পাচার এখন আর গোপন কোনো কার্যক্রম নয়। এটি পরিণত হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ ও নিয়মিত বাণিজ্যে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আসবাবপত্র তৈরির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বনজ কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় চকরিয়া, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ এলাকার বহু ইটভাটায় নির্বিচারে বনাঞ্চলের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এসব কাঠের বড় অংশ আসছে চুনতি রেঞ্জসহ আশপাশের সংরক্ষিত বন এলাকা থেকে।
সূত্রের দাবি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনকে একটি মৌসুমের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেছে কাঠ পাচারকারী ও ইটভাটা মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, চুনতি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন এই সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। এর ফলে প্রতিদিন শত শত ট্রাক কাঠ নির্বিঘ্নে ইটভাটাগুলোতে প্রবেশ করছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, পদুয়া ফরেস্ট চেক স্টেশন থাকলেও সেটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। বন উজাড় ঠেকাতে এই চেক স্টেশন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এই অঞ্চলের বনাঞ্চলে গাছ কাটা, জোত বিক্রি কিংবা পারমিট দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের যোগসাজশে এই অবৈধ কাঠ পাচার দীর্ঘদিন ধরে চলছে। চুনতি রেঞ্জের ফরেস্ট চেক স্টেশন দিয়েই প্রতিদিন কোটি টাকার কাঠ পাচার হচ্ছে বলে জানা গেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা, চেক স্টেশনের কিছু কর্মচারী ও পাচারকারী সিন্ডিকেটের সমন্বয়ে দিনরাত এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র মতে, কাঠ পাচার থেকে দৈনিক অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় এক লাখ টাকা, যা মাস শেষে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও বেশি বলে দাবি স্থানীয়দের। মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘মাসোহারার’ বিনিময়ে বন বিভাগের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চুনতি চেক পোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বাঁশ, গোল কাঠ, চেরা কাঠ ও ফার্নিচার বোঝাই অন্তত ৫০টির বেশি যানবাহন চলাচল করে। এসব গাড়ি পারাপারে গাড়িপ্রতি এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার ফার্নিচার দোকান সমিতি থেকেও প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে, সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন সময় আবির হোসেনকে ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিকবার গণমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ পেলেও রহস্যজনক কারণে রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন বরাবরই আড়ালে থেকে যান বলে দাবি স্থানীয়দের।
@Bangladesh crime sector
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com
© Copyright 2025 - acmbangladesh.com