ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর-এলজিইডি। এ অফিসে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে শতকরা হিসেব করে ঘুষ দিতে বাধ্য হন ঠিকাদাররা। এখানে ঘুষ ছাড়া মেলেনা সেবা নড়েনা ফাইল । এবিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডের গুনগত মান যাচাই-বাছাই নিয়েও বর্তমানে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে ঘুষ দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্যের কড়কড়ে বান্ডিলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসানুজ্জামান আছেন খোশমেজাজে, বহাল তবিয়তে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান দম্ভের সাথেই ঠিকাদারদের বলে থাকেন, প্রকল্প পরিচালক, এসও এবং আমার ফাইভ পার্সেন্ট বুঝিয়ে না দিলে এখানে কোনো ঠিকাদারের কাজ করার দরকার নেই।
তিনি মাঝে মাঝেই বলে থাকেন, আমার অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং বড়বাবুকেও ( হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা) ঠিকাদারদের উচিৎ যথাযথ খুশি রাখা। তিনি ঠাট্টার ছলে প্রকাশ্যেই বলে থাকেন, বড়বাবুদেরকে তো আমি গ্রাম থেকে বাবার জমি বিক্রি করে খুশি করতে যাবোনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী ঠিকাদার বলেন, ‘কাজ, ওয়ার্কঅর্ডার, কাজ তদারকি কর্মকর্তা, বিল পাওয়ার আগে হিসাব রক্ষকসহ অফিস সহকারী, উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এমনকি প্রকল্প পরিচালকসহ জনে জনে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।’
গত ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম ক্যারিশম্যাটিক কার্যলয়ে পরিণত হওয়া নারায়ণগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান এখনো স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। ছাত্র জনতার এই আন্দোলন নস্যাৎ করতে এলজিইডি ভবনে নিজ কক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত ছাত্রলীগ আর যুবলীগ নেতাদের সাথে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতেন আহসানুজ্জামান । আর তার সকল অপকর্মে সঙ্গ দিতেন সহকারী প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষক।
এই অফিস থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান প্রতিদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের জন্য শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পাঠাতেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
বিগত ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দিল্লি পালালেও নারায়ণগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামানের মতো তার দোসররা এখনও দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘাপটি মেরে রয়েছেন। তারা সুযোগ বুঝে লক্ষ্য অর্জনে ছলে বলে কৌশলে এমনকি বিগত সময়ের বিপুল পরিমাণ উপার্জিত অর্থ দিয়ে টার্গেট পূরণেও সক্ষম হচ্ছেন। শেখ হাসিনা পালালেও নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামানের মতো হাসিনার অনেক পেতাত্মা রয়েছেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বশেষ কদমরসুল সেতুর গোপন টেন্ডার ফাঁসের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধশত কোটি টাকা।
ইতমধ্যে আহসানুজ্জামান অবৈধ অর্থের জোরে সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) বিগত আওয়ামী আমলে যারা আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে কর্মস্থলে রামরাজত্ব কায়েম করেছেন এই আহসানুজ্জামান তাদেরই একজন। তারা বিগত সময়ে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে বিত্তশালী হয়েছেন। এখন তারাই সেই অর্থ দিয়ে দুর্নীতিবাজদের ম্যানেজ করে ফেলছেন। অন্যদিকে দুর্নীতিবাজরা রাতারাতি ভোল পাল্টিয়েও ফেলেছেন। বিদেশে অর্থ পাচার এবং কানাডার টরেন্টর বেগম পাড়াতেও বাড়ি বানিয়েছেন বলে অফিস স্টাফদের মধ্যে কানাঘুঁষা শোনা যায়
বহুল আলোচিত ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরকারের বিশ্বস্ত সহচর ও সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামানের নগ্ন হস্তক্ষেপে এলজিইডিতে হাজার হাজার কোটি টাকার ভয়াবহ লুটতন্ত্র কায়েম করা হয়। আহসানুজ্জামানদের ক্ষমতার হাত এতটাই লম্বা ছিলো যে, এলজিইডির কোন প্রধান প্রকৌশলীও সরকারি অর্থ রক্ষায় কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। আহসাজ্জামানের প্রিয়জন হিসাবে পরিচিত জেলা যুবলীগের কতিপয় ঠিকাদার নেতা শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে বাগিয়ে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকার কাজ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর কিছুদিন আগেও সংগোপনে সিডিউল ফাঁস করে ৫০ কোটি টাকা নগদ গ্রহণ করে তার পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেন হাজার কোটি টাকার কাজ। এছাড়া তার কমিশন বাণিজ্যে ইনভলড্ ঠিকাদারদের দিয়েছেন শত-শত কোটি টাকার কাজ।
আহসানুজ্জামানের এসব অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না কারোরই। দেশের ৬৪ জেলার শেখ হাসিনার আস্থাভাজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি এবং কেউ কেউ ওএসডি হলেও নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির মিলিয়নিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান এবং তার সকল অপকর্মের রাজস্বাক্ষি ওই অফিসের সহকারী প্রকৌশলী এখনও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তাই দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে সচেতনমহল মনে করেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ সিডিউলের তথ্য ফাঁস, লটারীর নামে নাটক, কমিশন বাণিজ্যে ঠিকাদারদের ১৫/২০ জনের ভাগ্য খুলতে সহায়তা করে নিজেও হয়েছেন শত-শত কোটি টাকার মালিক।
দুর্নীতিগ্রস্থ এই নির্বাহী প্রকৌশলী এখনো কীভাবে নারায়ণগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন তা খতিয়ে দেখতে দুদকের কঠোর হস্তক্ষেপসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় উপদেষ্টা এবং প্রধান প্রকৌশলীর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল বিস্তারিত আরও জানতে আমাদের সাথে থাকুন সারা বাংলাদেশের দুর্নীতি বাজ দের মুখোশ খুলে দিতে আমরা আছি আপনাদের মাঝে
@crimefreedhakabangladesh
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com