প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৯, ২০২৬, ১০:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, খাদ্য পরিদর্শক বরখাস্ত

বুধবার (২১ জানুয়ারি) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফিফ-আল-মাহমুদ ভূঁঞার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কারণে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে পরবর্তী পদায়নের জন্য আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুরের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ।
খাদ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ মৌসুমে রুহিয়া এলএসডিতে আমন চালের পরিবর্তে পুরাতন হাইব্রিড চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি খামালে কিছু বস্তা স্টেনসিলবিহীন এবং কিছু বস্তায় আমন সংগ্রহ/২০২৪-২৫ অর্থবছরের স্টেনসিলযুক্ত বস্তায় চাল রাখা হয়। পাশাপাশি নন শর্টার ও বিনির্দেশ বহির্ভূত নিম্নমানের পুরাতন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে রুহিয়া এলএসডির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম রুহিয়া সরকারি খাদ্য গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের ধান ও চাল সংগ্রহের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ বলেন, দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানের পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রুহিয়া সরকারি খাদ্য গুদামে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় গুদামের সব কটি স্টোররুম, খামাল ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়। সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী আমন চাল সংগ্রহ হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করি।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি বস্তা গণনা ও নথিপত্র মিলিয়ে দেখার সময় একটি গুদামে কোনো ধরনের রেকর্ডপত্র ছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল মজুতের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
@somoynews
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com
© Copyright 2025 - acmbangladesh.com