জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাবেক উপ-কমিশনার হামিদুল আলম মিলন এবং তার স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন— দুদকের বগুড়ার জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি হয়।
একইদিন দুপুরে উপসহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন ঢাকাটাইমসকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পৃথক দুটি মামলায় একটিতে হামিদুল আলম ও তার স্ত্রী লিপিকে আসামি করা হয়েছে। অপর আরেকটি মামলায় হামিদুল আলম, তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে। মূলত হামিদুল আলম নিজে সম্পদ কিনে বোনদের নামে দলিল করেছিলেন। পরে সেই সম্পত্তি হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে হস্তান্তর করেছেন।
জানা গেছে, হামিদুল আলম বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়ার মৃত এএসএম ইবনে আজিজের ছেলে এবং শাহজাদী আলম লিপি মৃত ডা. শহীদুল্লাহ মণ্ডলের কন্যা।
স্থানীয় সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিপি বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনি প্রচারে হামিদুল আলম সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি তাকে বরিশাল মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর লিপির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হলে হামিদুল আলম আত্মগোপনে চলে যান।
মামলার বিবরণীতে যা জানা গেল:
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপনের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম ও তার স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে— অতিরিক্ত ডিআইজির স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপি অসৎ উদ্দেশ্যে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। তার স্বামীর সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ-দখলে রাখেন তিনি। এছাড়া স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে সেগুলোর উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর (লেয়ারিং) করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় শাহাজাদী আলম লিপি এবং তার স্বামী হামিদুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ সালের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের মামলা নম্বর-২।
অপর মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক উপকমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সিএমপি, চট্টগ্রাম) ও বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে রংপুর রেঞ্জে কর্মরত অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হামিদুল আলম দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব দেন। একই সঙ্গে তিনি অবৈধ পন্থায় ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ-দখলে রাখেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরিকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা এবং শিরিন শবনম-এর অবৈধ সহায়তায় ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করা হয়। এসব সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর (লেয়ারিং) করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনায় হামিদুল আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ সালের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের মামলা নম্বর-১।
@dhakatimes
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com