প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ২:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২, ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
৩ কোটি টাকার প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম: কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগেই ব্যর্থতার মুখে পড়ছে। প্রায় তিন কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের কার্পেটিং কাজ এখনো চলমান থাকলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে পিচ হাতের ছোঁয়াতেই উঠে যাচ্ছে। কোথাও পা দিয়ে নাড়ালেই পিচ সরে পড়ছে, আবার কোথাও শিশুরা খেলতে খেলতেই তুলে ফেলছে সদ্য নির্মিত সড়কের পিচ। সড়কের কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের উপস্থিতি যতসামান্য।
সরেজমিন দেখা গেছে, সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের পিচের স্তর অত্যন্ত দুর্বল। অনেক জায়গায় রোলার ও কম্প্যাকশন সঠিকভাবে না হওয়ায় পিচ ভালোভাবে বসেনি। নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আইআইডিবি (নগর উন্নয়ন) প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস রুনা এন্টারপ্রাইজ। চারটি প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জুলাই মাসে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। বর্তমানে সড়কটিতে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের তিন (নিম্নমানের) নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে সঠিকভাবে খোয়া না দিয়ে শুধু বালু ভরাট করে তার ওপর দায়সারা খোয়া ছিটিয়ে লোক দেখানো কাজ করা হয়। স্থানীয়রা এসব অনিয়মের অভিযোগ তুললেও কাজের মানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং দ্রুততার সাথে ওই অবস্থাতেই রোলার চালিয়ে কার্পেটিং শুরু করা হয়।
খোদাদাতপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু, সালাম, আজিজ, বুলু, হিরো, কিরন, এজাজ ও ইয়াসিরসহ শতাধিক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, দুই দিনও হয়নি কার্পেটিং করা, এর মধ্যেই মুরগির পা লাগলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। শিশুরা তুলে খেলছে। এমন রাস্তা হলে ভারী গাড়ি চললে কী হবে? তাঁদের আশঙ্কা, কিছুদিন পর কাজ শেষ দেখিয়ে বিল তুলে ঠিকাদার চলে যাবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, পৌর প্রশাসক একাধিকবার সরেজমিন এসে কাজ পরিদর্শন করেছেন এবং প্রকাশ্যেই যথাযথভাবে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন। মানসম্মত কাজ না হলে তিনি সেটি গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছিেিলন। পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, আমি নিজে কাজ দেখেছি এবং ঠিকাদারকে স্পষ্ট করে জানিয়েছি; মান খারাপ হলে বিল দেয়া হবে না। তবু কেন চলমান কাজেই পিচ উঠে যাচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ঘনিষ্ঠতার সুযোগেই অনিয়ম চলমান রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার সুনীল প্রথমে কিছু কাজ ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি কথার প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে সাংবাদিকদের হেয় প্রতিপন্ন করে ইঙ্গিতমূলক কথা বলেন। ঠিকাদারের এমন আচরণে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে কারিগরি তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তা না হলে এই প্রকল্পটি উন্নয়নের বদলে দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com
© Copyright 2025 - acmbangladesh.com