রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ঢাকা-৮ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে দু'টি মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার কমিশন মামলা দু'টির অনুমোদন দিয়েছে।
অনুসন্ধান কর্মকর্তারা শিগগির কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলা দু'টি দায়ের করবেন। দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন আজ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ওই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অনুসন্ধানে আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দানের কোন ক্ষমতা না থাকা, নিয়োগ বোর্ডে কোন ডিজি বা ডিজির প্রতিনিধি ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না রাখা, প্রার্থীদের বিজ্ঞাপনে চাওয়া এনটিআরসিএ সনদ না থাকা, টেবুলেশন শিটে লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সুযোগ না দেয়া, নিয়োগ সংক্রান্ত টেবুলেশন শিট তৈরির আগেই নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে।
নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার আশ্রয়ে উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে শুধুমাত্র পূর্ব পরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ৪০৯/৪২০/১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় ১টি মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন, ডা. মাহবুব উর রহমান, সাবেক সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) মো. আবুল হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাবেক উপসচিব ও সাবেক সদস্য (অভিভাবক প্রতিনিধি) মীর মোশাররফ হোসেন, প্রভাষক ও সাবেক সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি শ্যামলী হোসেন, প্রভাষক মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মোহা. বজুলর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা ও মো. আরিফুল ইসলাম।
দ্বিতীয় মামলা
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগকালে তাদের অনুকূলে যে নিয়োগ পত্র দেয়া হয়েছিল তাতে এমপিওভূক্ত বেসরকারি স্কুলের চাকুরীবিধি প্রযোজ্য হবে মর্মে শর্ত দেয়া হয়েছিল।
এমপিওভূক্ত বেসরকারি স্কুলের চাকরি-বিধি অনুযায়ী স্কুল শাখায় নিয়োগকৃত একজন শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে সর্বোচ্চ সিনিয়র শিক্ষক হতে পারেন। তাদের প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতির কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও আলোচ্য ক্ষেত্রে ৩১ জন শিক্ষকের যে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাতে আইন বা বিধিগতভাবে তার স্বীকৃতি নেই। এক্ষেত্রে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার আশ্রয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব:) আলমগীর হোসেন, সাবেক অভিভাবক সদস্য ডা. মাহবুব উর রহমান, জহিরুল ইসলাম খান, সাবেক সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) মো. আবুল হোসেন, শ্যামলী হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাবেক উপসচিব মীর মোশাররফ হোসেন, প্রভাষক মাহবুব আলম বাচ্চু, মো. গোলাম মোস্তফা, নিলুফার ইয়াসমিন, শাহ মোঃ জুয়েল রেজা, মো. আজগর আলী, গাজী আবুল বাশার, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আইনুন নাহার, মমতাজ বেগম, জন ফ্লেরিয়ান গোমেজ, নাসিমা বেগম, হিমানী সেন, কামরুন নাহার, মো. আব্দুল আজিজ, মনিরুজ্জামান, তাকসিনা আক্তার বানু, সাবিনা নাজনীন, মো. দাউদ ইকবাল, শাহীন বেগম, মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম অভিযোগ দু'টি অনুসন্ধান করেছে।
টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন, সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস আলম ও উপসহকারী পরিচালক সাবিকুন নাহার।
@samakal
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com