সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালের জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছে।
বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর বিকাল তিনটায় এ সংবাদ সম্মেলনে দুদক জানিয়েছে, দুদক সাজেকা ঢাকা–১ এর উদ্যোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ০৫ এবং দায়েরের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৪।
দুদক জানায়, মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। তিনি ৬ অক্টোবর ২০১৩ থেকে ২৩ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তদন্তে তার মোট নীট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ২৮ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৫৪৮ টাকা। এর বিপরীতে সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার ৩৮৬ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকা।
দুদক জানায়, এজাহারভুক্ত আসামীর নিজ নামীয় ৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৫২ কোটি ২৩ লাখ টাকা জমা এবং ৩৫ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দুর্নীতি ও ঘুসের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বা সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে উক্ত অর্থের রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুদক জানায়, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত–১) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
সংবাদ সম্মেলনে দুদক আরও জানায়, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
@sokalersomoy
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com