তিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও বিশেষ সুবিধাভোগি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম কারখানা বিভাগের সদ্য সাবেক (রংপুরে বদলির আদেশ বাতিল করে বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইউসুফ ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বাড়ি,প্লট,ফ্লাট,গাড়ি,ব্যাংক ব্যালেন্সসহ অঢেল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ মানি লন্ডাারিং প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করেছেন। সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে আয় কর ফাঁকি প্রদান করছেন। মো: ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরীতে ব্যাংক একাউন্ট ও সম্পদের অনুসন্ধান করলে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যাবে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে(দুদক) দায়েরকৃত এক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
১৪ অক্টোবর-২০২৫ তারিখে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে,গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ এর বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্যে ইতিমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ২ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে(স্মারক নং-২৫.০০.০০০০.০১৩.২৭.০০২.২৪.৭৪১) বলা হয়েছে-”গণপূর্তের ই/এম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফের দুর্নীতির রাজত্ব” শিরোনামে ২১ আগষ্ট-২০২৫ তারিখের দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকায় এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলামসহ অন্যান্য কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ”সংস্কারের টাকার এক-তৃতীয়াংশই লোপাট” শিরোনামে ২৪ আগষ্ট-২০২৫ তারিখে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগ সংবলিত পত্রিকা কাটিংয়ের ছায়ালিপি এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো। আদেশে আরো বলা হয়েছে-এমতাবস্থায় উক্ত পেপার কাটিং দু’টিতে বর্ণিত অভিযোগসমুহ আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্যে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ক্ষমতাধর কর্মকর্তা ইউসুফের বিরুদ্ধে রয়েছে
নানা অনিয়ম, দুর্নীতি,কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করে অর্থ লোপাটের অভিযোগ। মোঃ ইউসুফের রয়েছে একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট। মূলত: আওয়ামী লীগ আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ”অবৈধভাবে” নিয়োগ পাওয়া ইউসুফ মনে প্রাণে বর্তমান সরকারকে ঘৃণাকরেন। আওয়ামী বিরোধী লোক দেখলেই তার গা জ্বলে। পক্ষান্তরে নিজেকে জামাত ঘরানার প্রমাণে ভুয়া একটি প্যাডে চট্টগ্রাম বিআইটির বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্যাড দিয়ে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়েছেন । উক্ত প্যাড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাইফুল্লাহ নামে কোন সভাপতি চট্টগ্রাম বিআইটিতে ছিল না। আবার স্বাক্ষরের নিচে যে সিল দেয়া হয়েছে সেটিও ভুয়া । সেখানে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্র শিবির। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্র শিবির নামে কোন সংগঠন নেই। সংগঠনটির প্রকৃত নাম হলো- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির। এভাবে জাল জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া ইউসুফ এখন শিবির সাজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে বিএনপি জামাত বিরোধী প্রকৌশলীদের নিয়ে যে সিন্ডিকেট ইউসুফ তার মধ্যে অন্যতম ।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তিনি কমিশন ছাড়া কোন কাজ করেন না। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে একজন ঠিকাদার পাওনা আদায়ে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দাখিল করেছিল। তারপর তড়িঘড়ি করে উক্ত ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করেছিলেন । গত অর্থ বছরের শেষের দিকে তিনি তার ১৫-২০% কমিশনের টাকা আদায়ের জন্য উঠে পড়ে লাগেন। কাজ না করে ও পুরো বিল উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে ইউসুফের বিরুদ্ধে। কাজ না করে বিল উত্তোলনের এ টাকা তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
ইএম কারখানা বিভাগ একটি অত্যন্ত লোভনীয় পোষ্টিং। এখানে নয় ছয়ের সুয়োগ খুব বেশী। তাই উক্ত স্থানটিতে আসার জন্য তিনি অনেক টাকা বিনিয়োগ ও করেছেন। মোঃ ইউসুফ অফিসের বাইরে বসে তার কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যেতে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি অত্যন্ত বড়। তিনি মূলত: তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকেন। তার আস্থাভাজন বিহারী কাওসার, নাজমা এন্টারপ্রাইজের সাথে সখ্যতার প্রমাণ মিলেছে। সরকার বিরোধী ঠিকাদাররা তার অত্যন্ত আস্থাভাজন। তার কমিশন বাণিজ্যের রেট ১৫-২০%। আগারগাঁও এ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে একজন ঠিকাদারের নিকট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বিল আটকিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। উক্ত ঠিকাদার এখনও পুরাপুরি বিল তুলতে পারেনি। অথচ ২ বছর পূর্বে উক্ত প্রকল্প সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোঃ ইউসুফ বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের অত্যন্ত আস্থাভাজন। সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নামে-বেনামে ইউসুফ ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকা সম্পদ ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে। সিন্ডিকেট সমস্ত নিয়োগ, বদলি, পদায়নে নেপথ্য ভূমিকা রাখেন। সম্প্রতি সিন্ডিকেটের এক সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন হয়েছে। যেখানে তার পদায়ন হওয়ার যোগ্যতাই নেই। নিলামের মাধ্যমে ৯ আগষ্ট- ট্রান্সফরমার ৩টি গণপূর্ত কারখানা উপবিভাগ-২ এর কম্পাউন্ড থেকে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যায় কথিত ‘দায়েন’ নামক ঠিকানার একটি প্রতিষ্ঠান। মাত্র ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে উপ-সহকারী উপবিভাগীয় ও নির্বাহী প্রকৌশলী ৮ লক্ষ টাকা নগদ কমিশন পেয়েছেন । ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তাদের জন্য ১১২ ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার চুক্তিমূল্যে পাম্প মটর সেট সরবরাহ স্থাপণ টেষ্টিং কমিশনিং ও ৭৯১৯৯৩১ টাকা চুক্তিমূল্যে সিসিটিভি সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপণ কাজ দুটিতে জুন ক্লোজিংয়ে পুরো বিল দেওয়া হয়েছে অথচ কাজের কিছুই হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে,একই অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দে ২১,৬১,২৫০ টাকার চুক্তিমূল্যে স্থানীয় সরকার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ডাইনিং হলের বিভিন্ন ধরণের লাইট ফিটিংস মেরামত নবায়নসহ সিকিউরিটি ও গার্ডেন লাইটের সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের নামে নামকাওয়াস্তে কাজের বাস্তাবায়ন দেখিয়ে পুরো বরাদ্দ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে । ২২,৬০,০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে একই অর্থবছরে জাতীয় আর্কাইত ও লাইব্রেরী ভবনের মিটিং রুমে এলইডি টিভি ল্যাব রুমে ইন্টারএক্টিভ ডিসপ্লে ২টি ওয়াকিটকি, ৩টি অডিও রেকর্ডার, ২টি পয়েন্টার সরবরাহ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ওয়্যারিং কাজে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ দেখিয়ে বরাদ্দে প্রায় অর্ধাংশ লোপাট করা হয়েছে । সমাপ্ত অর্থবছরে ৫৪,১০,৯৭৮ টাকা টাকার চুক্তিমূল্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরে লাইব্রেরী ও ট্রেনিং রুমে ফায়ার হাইড্রেন্ট রিপেয়ারিং ফায়ার এক্সটিনগুইসার রিফিলিং এইচটি সুইচ গিয়ার মেইনগেট সিকিউরিটি লাইটসহ অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এবং নতুন এসি সরবরাহ স্থাপণ সহকারে পুরাতন এসির বার্ষিক মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যাপক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মিল্টন কুমার দাসের সহায়তায় বরাদ্দের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে ।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইউসুফের বক্তব্য নেয়ার জন্যে তার টেলিফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। হোয়াটস্এ্যাপে বার্তা প্রদান করেও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি।
@muktirdak24.com
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com