কোটি টাকা চাঁদা দাবি, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা সালাউদ্দীনসহ পাঁচজন পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালতে দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আল ফেরদাউস আলফা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৪৮/৩৬৪/৩২৩/৩০৭ ধারাসহ অন্যান্য ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাউদ্দীন, সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক ওসি মহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জজ আদালতের সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ এবং তাঁর ছেলে মো. রাসেল।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্টে বাদীর দেড় কোটি টাকার ভারতীয় সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে বিজিবি। পরে বৈধ কাগজপত্র পাঠালেও তা ‘যথাযথ বুঝতে না পেরে’ বিজিবি মাছটি সদর থানায় পাঠায়। অভিযোগ, মাছ ছাড়িয়ে দিতে তৎকালীন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বাদীর কাছে দেড় কোটি টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে বাদী ফোন বন্ধ করতে বাধ্য হন। সেদিন রাতেই সাদা পোশাকধারী ১০–১২ জন পুলিশ বাদীর পলাশপোলস্থ বাড়িতে গিয়ে আরও ১ কোটি টাকা চাঁদা চান। বাড়িতে থাকা ১৫ লাখ টাকা দিলেও রক্ষা পাননি তিনি।
পরে বাদী ও তাঁর ভাই আব্দুল আলিমকে ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় মাছ জব্দের ঘটনায় করা মামলায় তাঁদের অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে পরস্পর যোগসাজশে দেড় কোটি টাকার মাছ মাত্র ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
আরও বলা হয়েছে, মামলায় ‘জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস’ দিয়ে তখনকার পিপি আব্দুল লতিফ ও তাঁর ছেলে রাসেল বাদীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৫ লাখ টাকা নেন।
বাদী অভিযোগ করেছেন, শারীরিক–মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আর্থিক ও সামাজিকভাবেও তিনি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে কারণেই আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি মামলা করেছেন। তৎকালীন সময়ে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখ ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন আদালত। পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com