দুই মাসও টিকবে না নির্মাণাধীন সড়ক। তাই জন্মের আগেই ‘মৃত’ ঘোষণা করে সড়কের ‘গায়েবানা জানাজা’ পড়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ঘটেছে এই ঘটনা। কেবল গায়েবানা জানাজাই নয়, সড়ক নির্মাণে বেপরোয়া দুর্নীতির প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার-প্রকৌশলীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে প্রতিবাদ। ঢালাই দেওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় কত সহজে সড়কের খোয়া আর বিটুমিন উঠে আসছে, সেই ছবি তুলে ভিডিও করে ফেসবুকে দিচ্ছেন অনেকে। এলাকাবাসীর দাবি, সাগরপারে অনেকটা মেরিন ড্রাইভের মতো ওই সড়কের নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকেই চলছে দুর্নীতি। এই নিয়ে বহুবার স্থানীয় এলজিইডি দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও তারা কানে তোলেননি। সর্বশেষ বিটুমিনের ঢালাইয়ে অনিয়ম হওয়ায় শুরু হয় এই আন্দোলন।
প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সৈকতের ৬ কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ। জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে লেম্বুর বন পর্যন্ত ওই এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে মেরিন ড্রাইভের অনুভূতি পান পর্যটকরা। এর বাইরে জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে বিস্তৃত সড়ক থাকলেও সেখানে দেখা যায় না সমুদ্র। বেড়িবাঁধ থাকলেও পূর্বদিকের ওই পথে ছিল না পাকা সড়ক। বাঁধের এবড়ো-খেবড়ো মাটি-বালি মাড়িয়ে চলতে হতো সবাইকে। দুর্ভোগ এড়াতে অনেকে আবার বাঁধ এড়িয়ে সৈকত ধরে পৌঁছাত সেখানে। তিন নদীর মোহনা, প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ঘন জঙ্গল আর সৈকতে বালি ফুঁড়ে বেরোনো গাছের দৃশ্যমান শেকড়রাজির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লেম্বুর বন। ফলে দাবি ওঠে জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুর বন পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা করার। পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি কুয়াকাটার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়কটি। বর্ষায় যেটি থাকে চলাচলের পুরোপুরি অনুপযোগী।
জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে মাঝি বাড়ি পর্যন্ত পৌনে ৩ কিলোমিটার সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেই লক্ষ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রকল্প অনুযায়ী বেড়িবাঁধ ১৫ ইঞ্চি গভীর করে প্রথমে ৩ ইঞ্চি বালু, তারপর বালু-খোয়ার ৬০/৪০ অনুপাতে মিশ্রণ ৬ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি মেকাডাম (ইটের খোয়া) করে ওপরে ১ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা। টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজটি পায় ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা কাজ না করে জসিম মৃধা নামে একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। রাস্তা নির্মাণে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে জসিম মৃধার বিরুদ্ধে। ৩ ইঞ্চি বালি দেওয়ার কথা থাকলেও কোথাও ১ থেকে দেড় ইঞ্চির বেশি দেওয়া হয়নি। ৬ ইঞ্চির খোয়া-বালির ৬০/৪০ অনুপাত মিশ্রণেও হয় অনিয়ম। আগাগোড়া শতকরা ২০ ভাগ খোয়া আর ৮০ ভাগ বালি দেওয়া হয় সড়কে। মেকাডামের খোয়া দেওয়া হয় নিম্নমানের ইট ভেঙে। এই নিয়ে সেখানে ঠিকাদারের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কথা কাটাকাটিও হয়।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে কাজ পরিদর্শনে কুয়াকাটায় যান পটুয়াখালীর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হোসাইন আলী মীর। তার কাছে সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি তুলে ধরেন পর্যটন ব্যবসায়ীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। নির্মাণে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চলে আসেন তিনি। এরপর কিছুদিন বন্ধ থাকে নির্মাণকাজ। তবে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ কিংবা শুরু থেকে করা অনিয়ম সংশোধনের উদ্যোগ নেননি ঠিকাদার। এছাড়া কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও ওঠে নিম্নমানের কাজে নীরব সহযোগিতার অভিযোগ।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com