রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বহুদিনের সমস্যা। এই দীর্ঘদিনের অনিয়মের ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সহকারী পরিচালক এ কে এম আবু সাঈদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দালালচক্রকে প্রশ্রয়, ঘুষ লেনদেন ও সেবা গ্রহীতাকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা ওমরাহ পালনে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে গেলে সহকারী পরিচালক তাকে জানান ঢাকার ঠিকানার কারণে লক্ষ্মীপুরে পাসপোর্ট করা যাবে না।
পরিবারের পক্ষ থেকে বয়সজনিত কষ্ট বিবেচনায় অনুরোধ করা হলেও তিনি কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এটা করলে আমার চাকরি থাকবে না।”
কিন্তু অফিস কক্ষ থেকে নিচে নামতেই পাসপোর্ট অফিসের এক দালাল জানান ২ হাজার টাকা দিলেই এখান থেকেই পাসপোর্ট করে দেওয়া যাবে। টাকা নেওয়ার পর দালালই সব কাজ সম্পন্ন করে পাসপোর্ট করে দেন।
প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে অফিস প্রধান নিজে দাবি করেন কাজটি করলে চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে, সেখানে দালালের হাতে মাত্র ২ হাজার টাকা যেতেই কাজটি কীভাবে সম্ভব হলো?
এমনই আরেক অভিযোগ করেছেন দৈনিক নতুন চাঁদ পত্রিকার বার্তা প্রধান সারোয়ার হোসাইন বুলবুল। একজন দরিদ্র চায়ের দোকানদারের মেয়ের পাসপোর্ট করতে গিয়ে তিনিও একই ধরনের দালালচক্র ও ঘুষচাপের মুখোমুখি হন।
ফরমে কোনো ভুল না থাকা সত্ত্বেও তাকে বারবার ভোগান্তিতে ফেলা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিলে পাসপোর্ট করে দেওয়া হয়। পাসপোর্ট পাওয়ার পর সাংবাদিক বুলবুল যখন দালালের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জানতে চান, সহকারী পরিচালক ক্ষুব্ধ হয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, এমনকি পাসপোর্ট বাতিল করার হুমকি দেন। এই ঘটনাটি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজেও দৃশ্যমান বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী।
এ কে এম আবু সাঈদ নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তার ‘সততার মুখোশ’ খুলে গেছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, লক্ষ্মীপুর পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্র সুসংগঠিত। তাদের হাতে অফিস থেকে দেওয়া সাংকেতিক চিহ্ন থাকে। দালালের ফরমে সেই চিহ্ন থাকলে কোনো ভুল ধরা হয় না। কিন্তু সাধারণ আবেদনকারীদের ফরমে অযথা বহু ভুল দেখিয়ে হয়রানি করা হয়।
লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এ কে এম আবু সাঈদের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীতিগত ভাবে আমি এগুলো এপ্রুভ করি না। যারা এইরকম অনিয়ম করেছে, তারা ঠিক করে নি।
সরকার সম্প্রতি পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে নিয়েছে। ফলে পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন পাসপোর্ট অফিসের। অথচ এখানেই চলছে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানি।
