প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ৪:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
মনোনয়নে বঞ্চিত বিএনপি নেতা কামরুলের বি’রুদ্ধে দু’র্নী’তির তদন্ত দাবি

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদন জমা পড়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও সুনামগঞ্জ-১ আসনে তিনি মাঠে সক্রিয় থাকায় দলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ উঠেছে ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পরীক্ষায় ‘বদলি পরীক্ষা’ দেওয়ার। অভিযোগে বলা হয়েছে—বাদাঘাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রের উপস্থাপনায় কামরুল পরীক্ষা দিয়েছেন বলে রেকর্ডে উল্লেখ থাকলেও সেই সময়ে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়—২৪ সেপ্টেম্বর তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে—তার জায়গায় আত্মীয় মিজানুর রহমান মিজান নামে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। বিষয়টি তদন্তে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ১৭ অক্টোবর কেন্দ্র পরিদর্শনও করা হয়েছে।
মনোনয়ন ঘোষণার আগে সাচনা বাজারের এক সভায় এক সমর্থকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক গ্রহণ করেও তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। পরে জানা যায়—চেকদাতার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৩,৮৩৪ টাকা ছিল। সমালোচনা বাড়লে পরদিন তিনি চেকটি ফেরত দেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সূত্রের দাবি—কামরুল দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা নদী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীপাড় কাটার মাধ্যমে সম্পদ লুট, নৌঘাট, জলমহাল, কয়লা বন্দর ও শুল্ক স্টেশন থেকে মাসে কোটি টাকার বেশি আদায়ের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগকারীরা বলছেন—প্রতি ফুট বালু উত্তোলনে নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ তোলা হচ্ছে এবং ইজারাদারদের পেছনে কামরুলের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের ঘটনায় তাঁর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুদকে পাঠানো আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে—২০০২ সালে তাহিরপুর থানার এক এসআইয়ের অস্ত্র ব্যবহার করে ওয়াহিদুজ্জামান শিপলু হত্যার পর তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান। পরে জামিন নিয়ে দেশে ফিরে আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন—২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ঘাট ও কয়লা ব্যবসা দখলে নেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুজ্জামান কামরুল। তাঁর ভাষ্য—“আমি এ বছরের কোনো পরীক্ষা দিচ্ছি না। সব অভিযোগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বালু কিংবা চেক—কোনোটার সঙ্গেই আমার সম্পৃক্ততা নেই।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com
© Copyright 2025 - acmbangladesh.com