চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পিছিয়ে নেই দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কাজও।
মাত্র দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আওতায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবার ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে রাজধানীর পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বাদীর জেরা শেষ পর্যায়, ফলে খুব শিগগিরই মামলার রায় হতে পারে বলে জানা গেছে।
এক বছরের ব্যবধানে শেখ পরিবারে বিরুদ্ধে প্লট, সেতুর টোল, সূচনা ফাউন্ডেশন, সিআরআইর অনুদান ও অবৈধ সম্পদের হাজার কোটি টাকার মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবার সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদক নির্দিষ্ট কোনো বিষয় বা ব্যক্তির দুর্নীতি নিয়ে কাজ করে না। দুদক আইন ও বিধি অনুসরণ করে তফসিলভুক্ত সব দুর্নীতির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়। এক্ষেত্রেও দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা আইন ও বিধির মধ্যে থেকে তাদের তদন্তকাজ শেষ করবে। পরে আইনি পদক্ষেপ আদালত নেবে।
শেখ হাসিনাসহ পরিবার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত মামলা-
পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট নিয়ে আসামি শেখ পরিবার
রাজধানীর পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে পুতুল ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারে সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৮ অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এর মধ্যে নিজ নামে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৯ নম্বর প্লট নেওয়ার অভিযোগ শেখ হাসিনাসহ ১২ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয় গত ১০ মার্চ। সব মামলা বর্তমানে বিচারাধীন পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরেও রায় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সেতুর টোলের ৩০৯ কোটি টাকা নয়-ছয়
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডকে কাজ দিয়ে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী কাদের ৭ মন্ত্রীসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ১২ অক্টোবর মামলা দায়ের করে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী তানজিল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এ মামলায় আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, সাবেক উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব হোসেন খান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম, সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও পরিচালক ইকরাম ইকবাল।
মামলা এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রে নিয়োগ দিতে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করা হয়। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই শুধু সিএনএস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে ৫ বছরের জন্য সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয় মোট আদায় করা টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ। এর ফলে সিএনএস লিমিটেড মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে, যা একই মেয়াদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com